ভালো আইডিয়া পেতে হলে, আগে ভালো প্রশ্ন করতে শিখতে হবে
By Adnan Dewan · Oct 11, 2026, 1:38 AM

ধরুন, আমরা প্রতিদিন অফিসে একই মিটিং করি। একইভাবে কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলি, একই নিয়মে কাজ করি। একদিন কেউ প্রশ্ন করল, “আমরা এই কাজটা এভাবেই করি কেন?” সবাই একটু থমকে গেল। কারণ কাজটা কীভাবে করতে হয়, সেটা আমরা জানি। কিন্তু কেন এভাবে করতে হয়, সেটা হয়তো অনেক দিন ভাবাই হয়নি।
ক্রিয়েটিভিটির শুরু হয় কৌতূহল থেকে, সব উত্তর জানার দাবি থেকে নয়।
আমরা যত বেশি প্রশ্ন করি, কোনো বিষয় তত ভালোভাবে বুঝতে পারি। আর কোনো কিছু ভালোভাবে বুঝতে পারলেই সেটাকে উন্নত করার উপায় খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। যেমন, কোনো স্টার্টআপে কাস্টমার সার্ভিসে অনেক অভিযোগ আসছে। আমরা শুধু কর্মীদের আরও দ্রুত কাজ করতে বলার বদলে প্রশ্ন করতে পারি, অভিযোগগুলো বারবার আসছে কেন? কাস্টমার কোথায় আটকে যাচ্ছেন? সমস্যাটা কি মানুষের, নাকি পুরো প্রক্রিয়ার?
একটি ভালো প্রশ্ন আমাদের পরিচিত সমস্যাকে নতুনভাবে দেখতে সাহায্য করে।
আমরা কয়েকটি সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে পারি। কেন কাজটা এভাবে হয়? আর কীভাবে করা যায়? অন্য কেউ করলে কীভাবে করত? অন্য কোথাও বা অন্য সময়ে করা গেলে কি ভালো হতো? ধরুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাব প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য নতুন করে রেজিস্ট্রেশন নেয়। তারা যদি প্রশ্ন করে, আগের অংশগ্রহণকারীদের তথ্য আবার সংগ্রহ করতে হয় কেন, তাহলে হয়তো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে যেখানে পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে নতুন রেজিস্ট্রেশন অনেক সহজ হয়ে যায়।
কৌতূহল শুধু বড় সমস্যার জন্য নয়, প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজেও কাজে লাগে।
আমরা কীভাবে মিটিং শুরু করি, কিভাবে নতুন টিম মেম্বারকে কাজ বুঝিয়ে দিই, কিংবা কোনো কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্ট তুলে ধরি, এসবের প্রতিটিতেই নতুন কিছু ভাবার সুযোগ আছে। একটি মিটিংয়ে সবাই শুধু নিজের আপডেট দিলে সেটি একরকম হবে। কিন্তু শুরুতেই যদি প্রশ্ন করা হয়, “গত সপ্তাহে আমরা কী শিখেছি, আর এই সপ্তাহে কী বদলানো দরকার?” তাহলে একই মিটিং থেকেও ভিন্ন ফল পাওয়া সম্ভব।
নতুন কিছু শিখতে হলে মাঝে মাঝে পরিচিত গণ্ডির বাইরেও যেতে হয়।
আমরা যে কাজগুলো ভালো পারি, সেগুলো করতে স্বস্তি লাগে। কিন্তু নতুন কোনো প্রেজেন্টেশন তৈরি করা, অপরিচিত মানুষের সামনে কথা বলা কিংবা ভিন্ন ধরনের কোনো দায়িত্ব নেওয়া আমাদের চিন্তাকে নতুনভাবে ব্যবহার করতে শেখায়। শুরুতেই অসাধারণ কিছু করতে হবে না। বরং নতুন অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মানসিকতা থাকলে ধীরে ধীরে নিজেদের ওপর আস্থা বাড়ে। সেই আস্থাই পরেরবার আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে সাহায্য করে।
অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুন সম্ভাবনা খুঁজতে শেখা দরকার।
কোনো প্রযুক্তি আমাদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে, কোনো কাস্টমার অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন, কিংবা ব্যবসার পরিচিত মডেল আর আগের মতো কাজ করছে না। এসব পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু কী হারাতে পারি, তা না ভেবে কী নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে, সেটাও আমরা একটু খুঁজে দেখতে পারি। যেমন, এআইয়ের কারণে কিছু নিয়মিত কাজ সহজ হয়ে গেলে আমরা ভাবতে পারি, সেই সময়টা কাস্টমারের সমস্যা আরও ভালোভাবে বোঝা কিংবা নতুন সার্ভিস তৈরিতে কীভাবে ব্যবহার করা যায়।
আজ থেকেই আমরা একটি ছোট অভ্যাস শুরু করতে পারি। প্রতিদিনের একটি সাধারণ কাজ বেছে নিয়ে পাঁচটি প্রশ্ন লিখি: কেন এভাবে করি, আর কী করা যায়, অন্য কেউ কীভাবে করত, কোথায় বা কখন করলে ভালো হতো, আর কীভাবে ছোট করে নতুন পদ্ধতিটি পরীক্ষা করা যায়। প্রত্যেকবার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হবে না। শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে একটি ছোট পরীক্ষা করি। কারণ ভালো আইডিয়া সব সময় মাথায় হঠাৎ আসে না। অনেক সময় সঠিক প্রশ্ন করতে করতেই আমরা সেটি খুঁজে পাই।
Sources
- Personal Insight
- Chris Croft
About the writer
Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.
Knowledge layer
Connected notes
Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.
Loading notes…
