যে সমস্যাটা নিয়ে এত ভাবছি, সেটা কি আসলেই এত বড়?

By Adnan Dewan · Oct 23, 2026, 7:30 PM

0readers
Share
যে সমস্যাটা নিয়ে এত ভাবছি, সেটা কি আসলেই এত বড়?

ধরা যাক, আমাদের নতুন একটা চুলের স্টাইল হয়েছে। আয়নায় তাকিয়ে কিছুতেই ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে, সবাই নিশ্চয়ই বিষয়টা লক্ষ করছে। কিন্তু সত্যিই কি সবাই সেটা নিয়ে ভাবছে? হয়তো দু একজন লক্ষ্য করেছে, বাকিরা খেয়ালই করেনি। আর যারা করেছে, কয়েক দিন পর তারাও হয়তো অভ্যস্ত হয়ে যাবে। যে বিষয়টা এখন আমাদের কাছে বিশাল সমস্যা, সময়ের সঙ্গে সেটাই হয়তো আর কোনো সমস্যাই থাকবে না।

সমস্যাটাকে আমরা যত বড় ভাবি, সেটা সব সময় তত বড় নয়।

কোনো কিছু আমাদের পছন্দ না হলেই সেটাকে বড় সমস্যা মনে হতে পারে। কিন্তু অন্যদের কাছে বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাও ভাবা দরকার। আমাদের নতুন পোশাক, কথা বলার ধরন কিংবা কোনো কাজের ছোটখাটো ভুল হয়তো আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে, অথচ অন্যরা সেগুলো নিয়ে তেমন ভাবেই না। স্টার্টআপেও এমন হয়। নতুন ওয়েবসাইটের একটা ছোটখাটো ডিজাইন সমস্যা নিয়ে আমরা অনেক সময় ব্যস্ত হয়ে পড়ি, অথচ কাস্টমার হয়তো ডিজাইনের চেয়ে পণ্যটি সহজে ব্যবহার করতে পারছে কি না, সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সময়ের সঙ্গে কিছু সমস্যা নিজে থেকেই ছোট হয়ে আসে।

কোনো পরিবর্তন প্রথমে অস্বস্তিকর মনে হওয়া স্বাভাবিক। নতুন ম্যানেজার, নতুন কাজের পদ্ধতি কিংবা নতুন টিমে যোগ দেওয়ার পর অনেক কিছুই কঠিন লাগতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিই। শুরুতে যে বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিন চিন্তা করতে হতো, কিছুদিন পর সেটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই কোনো সমস্যার সমাধানে অনেক সময় ও ক্রিয়েটিভিটি ব্যয় করার আগে ভাবতে পারি, সময়কে একটু সুযোগ দিলে সমস্যাটি কি নিজে থেকেই কমে আসবে?

সব প্রতিযোগিতাকে হারাতে গিয়ে নিজেদের শক্তিই নষ্ট করে ফেলতে পারি।

কোকা কোলার একটি বিখ্যাত উদাহরণ আছে। পেপসির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কোকা কোলা তাদের মূল পানীয়ের স্বাদ পরিবর্তন করে নতুন কোক বাজারে এনেছিল। কিন্তু অনেক কাস্টমার পুরোনো স্বাদকেই পছন্দ করতেন। নতুন স্বাদ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোম্পানিকে পুরোনো স্বাদ ফিরিয়ে আনতে হয়। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, প্রতিযোগীর কোনো সুবিধা দেখেই নিজেদের পণ্য বদলে ফেলা ঠিক নয়। কিছু কাস্টমার অন্য ব্র্যান্ড পছন্দ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেই কারণে নিজেদের সবচেয়ে পরিচিত পণ্যটিই বদলে ফেললে বরং বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

প্রতিটি দুর্বলতা দূর করার চেয়ে নিজের শক্তি চিনে সেটা বাড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আমাদের পণ্য বা সার্ভিসে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। প্রতিযোগীর সব সুবিধার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে যদি আমরা নিজেদের পরিচয় হারিয়ে ফেলি, তাহলে ক্ষতি হতে পারে। যেমন, একটি ছোট স্টার্টআপ বড় প্রতিষ্ঠানের মতো সব ফিচার তৈরি করতে গিয়ে নিজের মূল কাস্টমারদের প্রয়োজনই উপেক্ষা করতে পারে। বরং কোন কাজে আমরা ভালো, কোন কাস্টমার আমাদের পছন্দ করেন এবং কোথায় আমরা আলাদা মূল্য তৈরি করি, সেগুলোতে মনোযোগ দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

কোনো সমস্যার গুরুত্ব যাচাই করাও ক্রিয়েটিভিটির অংশ।

আমরা সাধারণত সমস্যা দেখলে সমাধান খুঁজি। কিন্তু তার আগে কয়েকটি প্রশ্ন করা দরকার। সমস্যাটি কতজনকে প্রভাবিত করছে? এর ক্ষতি কতটা? সময়ের সঙ্গে কি পরিস্থিতি বদলাবে? এটি সমাধান করতে গিয়ে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষতি হবে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, কোথায় কাজ করা জরুরি আর কোথায় অযথা শক্তি ব্যয় না করাই ভালো।

আজ আমরা যে সমস্যাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছি, সেটি লিখে ফেলি। তারপর ভাবি, এর বাস্তব ক্ষতি কতটা, অন্যরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এক মাস পরও এটি একই রকম গুরুত্বপূর্ণ থাকবে কি না। সব সমস্যার সমাধান করার দরকার নেই। কখনো কখনো একটু অপেক্ষা করা, মানিয়ে নেওয়া কিংবা নিজের শক্তির জায়গায় মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত।

Sources

  • Personal Insights
  • Chris Croft

About the writer

Adnan Dewan

Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.

Knowledge layer

Connected notes

Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.

Loading notes…