অনেক আইডিয়া, তবু শুরু করতে পারছি না কেন?

By Adnan Dewan · Oct 22, 2026, 2:30 PM

0readers
Share
অনেক আইডিয়া, তবু শুরু করতে পারছি না কেন?

ধরুন, আমরা একটা নতুন স্টার্টআপ শুরু করতে চাই। মাথায় দশটা আইডিয়া ঘুরছে। একটা ফুড ডেলিভারি নিয়ে, একটা কৃষকদের জন্য অ্যাপ, আরেকটা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম। কোনটা সবচেয়ে ভালো হবে, কোনটার মার্কেট বড়, কোনটায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এসব ভাবতে ভাবতে কয়েক সপ্তাহ চলে গেল। অথচ কোনো আইডিয়া নিয়েই কাজ শুরু করা হলো না।

অনেক সময় আইডিয়ার অভাব নয়, অতিরিক্ত বিকল্পই আমাদের আটকে দেয়।

আমরা ভাবি, ক্রিয়েটিভ হতে হলে সবচেয়ে ভালো আইডিয়াটা খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, যত বেশি বিকল্প সামনে আসে, ততই তুলনা বাড়ে। একটা আইডিয়া ভালো মনে হলে অন্যটার সম্ভাবনা চোখে পড়ে। আবার সেটি বেছে নিলে মনে হয়, হয়তো আরও ভালো কিছু বাদ পড়ে যাচ্ছে। এভাবে সেরা সিদ্ধান্ত খুঁজতে গিয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারি না। স্টার্টআপের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলা বা ছোট করে আইডিয়া পরীক্ষা করার আগেই আমরা অনেক সময় নষ্ট করি।

পারফেক্ট কিছু তৈরির চাপ কমাতে হলে কাজের সীমা ঠিক করতে হবে।

ধরুন, আমরা ঠিক করলাম, একটা অসাধারণ ব্লগ লিখব। কিন্তু অসাধারণ বলতে কী বোঝাচ্ছি, তার কোনো সীমা নেই। ফলে প্রতিটি বাক্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এর বদলে যদি ঠিক করি, এক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম খসড়া লিখব, তাহলে কাজটা অনেক বেশি নির্দিষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে, নতুন প্রোডাক্টের জন্য এক সপ্তাহে তিনটি সম্ভাব্য সমাধান তৈরি করা কিংবা এক দিনে পাঁচজন কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলার লক্ষ্য নেওয়া যায়। সীমা আমাদের চিন্তা বন্ধ করে না, বরং চিন্তাকে কাজে রূপ দেওয়ার একটি কাঠামো দেয়।

প্রথম আইডিয়াটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না ভেবে শুরুর উপকরণ হিসেবে দেখি।

পল ম্যাকার্টনি একটি সুরের ধারণা পেয়েছিলেন, যা পরে বিখ্যাত গান “Yesterday” হয়ে ওঠে। কিন্তু একটি ভালো সুর পাওয়া আর সম্পূর্ণ গান তৈরি করা এক বিষয় নয়। এর জন্যও কাজ করতে হয়েছে, শব্দ খুঁজতে হয়েছে, বারবার চেষ্টা করতে হয়েছে। আমাদের স্টার্টআপের আইডিয়াও একইভাবে এগোতে পারে। প্রথম খসড়াটি অসাধারণ না হলেও সমস্যা নেই। কাস্টমারের প্রতিক্রিয়া, ছোট পরীক্ষা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেটিকে উন্নত করা যায়। প্রথম চেষ্টাতেই সেরা কিছু তৈরি করতে হবে, এই প্রত্যাশা ছেড়ে দিলে শুরু করা সহজ হয়।

ইনস্পিরেশনের অপেক্ষা না করে নিজের কাজের নিয়ম তৈরি করি।

কোনো দিন নতুন আইডিয়া সহজে আসতে পারে, কোনো দিন নাও আসতে পারে। প্রতিদিন শুধু মুডের ওপর নির্ভর করলে কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন। তাই আমরা নিজের জন্য ছোট একটি নিয়ম তৈরি করতে পারি। যেমন, প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট আইডিয়া নিয়ে কাজ করা, প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা লেখা কিংবা প্রতি সপ্তাহে একটি নতুন ধারণা কাস্টমারের কাছে পরীক্ষা করা। নিয়মটি এমন হতে হবে, যা বাস্তবে পালন করা সম্ভব। লক্ষ্য প্রতিদিন অসাধারণ কিছু তৈরি করা নয়, বরং প্রতিদিন কাজটিকে একটু এগিয়ে নেওয়া।

আজ আমরা এমন একটি কাজ বেছে নিই, যেটা অনেক বিকল্পের মধ্যে আটকে আছে। কাজটির জন্য একটি ছোট ও নির্দিষ্ট সীমা ঠিক করি, যেমন ৩০ মিনিটে প্রথম খসড়া তৈরি করা বা তিনটি সম্ভাব্য সমাধান লেখা। সেরা আইডিয়াটি খুঁজতে গিয়ে থেমে না থেকে একটি দিয়ে শুরু করি। তারপর বাস্তবতা অনুযায়ী সেটিকে উন্নত করি। মনে রাখি, অনেক সময় ভালো আইডিয়া শুধু চিন্তা করে পাওয়া যায় না, কাজ করতে করতেও তৈরি হয়।

About the writer

Adnan Dewan

Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.

Knowledge layer

Connected notes

Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.

Loading notes…