আমরা কি সঠিক লক্ষ্যেই ছুটছি?

By Adnan Dewan · Oct 25, 2026, 1:21 AM

0readers
Share
আমরা কি সঠিক লক্ষ্যেই ছুটছি?

একটি স্টার্টআপের বিক্রি কমে গেছে। প্রতিষ্ঠাতা ঠিক করলেন, বিক্রি বাড়াতেই হবে। শুরু হলো বিজ্ঞাপন, ছাড় আর নতুন সেলস টিম নিয়ে নানা পরিকল্পনা। কিন্তু কেউ প্রশ্ন করল না, আসলে ব্যবসাটির কোন জায়গায় উন্নতি দরকার। বিক্রি বাড়লেও যদি প্রতিটি পণ্যে লোকসান হয়, তাহলে কি ব্যবসা ভালো হবে? হয়তো বিক্রি বাড়ানোর চেয়ে প্রতি কাস্টমার থেকে লাভ বাড়ানোই বেশি জরুরি। আবার হয়তো আসল সমস্যা বিক্রিতে নয়, কাস্টমার ধরে রাখতে না পারায়।

আমরা যে লক্ষ্য ঠিক করেছি, সেটি কি আসলেই আমাদের আসল লক্ষ্য?

কোনো কাজ শুরু করার আগে আমরা সাধারণত একটি লক্ষ্য ধরে নিই। ব্যবসা বাড়াতে হবে, আরও বিক্রি করতে হবে, বড় মার্কেটে যেতে হবে কিংবা প্রতিযোগীর মতো নতুন ফিচার আনতে হবে। কিন্তু এই লক্ষ্যগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা সব সময় যাচাই করি না। একটি স্টার্টআপের লক্ষ্য যদি লাভজনক ও টেকসই ব্যবসা তৈরি করা হয়, তাহলে শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। আমাদের বুঝতে হবে, কোন ফলাফলটি সত্যিকার অর্থে আমাদের এগিয়ে নেবে।

লক্ষ্য আর সেই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি এক জিনিস নয়।

ধরা যাক, একটি কারখানার মেশিন ধীরে কাজ করছে। ম্যানেজার বললেন, মেশিনের গতি বাড়াতে হবে। কিন্তু পুরোনো মেশিন দ্রুত চালালে বারবার নষ্ট হয় এবং পণ্যের মানও খারাপ হয়ে যায়। এখানে মেশিনের গতি বাড়ানো একটি পদ্ধতি, চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। আসল লক্ষ্য হয়তো বেশি পণ্য তৈরি করা, অথবা একই মেশিন থেকে বেশি লাভ করা। সে ক্ষেত্রে মেশিনটি সারাদিন চালানো, দাম বাড়ানো, বিকল্প পণ্য তৈরি করা কিংবা আরেকটি মেশিন কেনা আরও কার্যকর হতে পারে। লক্ষ্য পরিষ্কার হলে সমাধানের বিকল্পও বাড়ে।

প্রতিযোগী যা করছে, আমাদেরও কি তা করতে হবে?

কোনো প্রতিযোগী নতুন ফিচার চালু করলেই আমরা সেটি তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারি। বড় কোম্পানি বিদেশের মার্কেটে সফল হয়েছে দেখে আমরাও সেখানে প্রবেশের পরিকল্পনা করতে পারি। কিন্তু অন্যের সাফল্যের পথ আমাদের জন্যও সঠিক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আমাদের কাস্টমার কারা, তাদের প্রয়োজন কী এবং আমাদের ব্যবসার শক্তি কোথায়, সেগুলো বিবেচনা করা জরুরি। অন্যরা কী করছে, তা জানা দরকার; কিন্তু নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করার দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

একই লক্ষ্য অর্জনের একাধিক পথ খুঁজে দেখি।

আমরা যদি শুধু একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিকে আঁকড়ে ধরি, তাহলে বিকল্পগুলো চোখে পড়ে না। যেমন, ব্যবসার আয় বাড়াতে চাইলে বিক্রি বাড়ানো ছাড়াও পণ্যের দাম পুনর্বিবেচনা করা, খরচ কমানো, পুরোনো কাস্টমারদের ধরে রাখা কিংবা নতুন পণ্য চালু করার সুযোগ থাকতে পারে। প্রতিটি বিকল্পের সুবিধা ও ঝুঁকি আলাদা। তাই প্রথমেই একটি সমাধান বেছে না নিয়ে, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের সম্ভাব্য পথগুলো খুঁজে দেখা স্ট্রাটেজি এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কাজ শুরু করার আগে নিজেদের কাছে তিনটি প্রশ্ন রাখি।

আমরা আসলে কী অর্জন করতে চাই? এই লক্ষ্যটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? আর আমরা যে পদ্ধতিতে এগোচ্ছি, সেটিই কি সবচেয়ে কার্যকর পথ? এই প্রশ্নগুলো আমাদের প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে সাহায্য করে। কখনো দেখা যাবে, লক্ষ্যটি ঠিক আছে, শুধু পদ্ধতি বদলানো দরকার। আবার কখনো লক্ষ্যটিকেই নতুন করে ভাবতে হবে। এতে হয়তো কাজের শুরুতে একটু বেশি সময় লাগবে, কিন্তু ভুল পথে অনেক সময় ও সম্পদ ব্যয় করার ঝুঁকি কমবে।

আজ আমরা যে কাজটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত, সেটি বেছে নিই। তারপর লিখে ফেলি, আমরা কী করছি, কেন করছি এবং শেষ পর্যন্ত কোন ফলাফলটি চাই। এরপর ভাবি, বর্তমান পদ্ধতি ছাড়া আর কীভাবে সেই ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। মনে রাখি, কোনো কাজ দ্রুত বা ভালোভাবে করার আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার, কাজটি করাই কি আমাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ ভুল লক্ষ্যকে নিখুঁতভাবে অর্জন করলেও আমরা প্রকৃত সাফল্য থেকে দূরে থাকতে পারি।

Sources

  • Personal Insights
  • Chris Croft

About the writer

Adnan Dewan

Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.

Knowledge layer

Connected notes

Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.

Loading notes…