প্রতিদিন রাতে আপনার স্টার্টআপের গল্পটা লিখে রাখুন
By Adnan Dewan · Oct 2, 2026, 10:39 PM

রাত প্রায় বারোটা। সারাদিনের কাজ শেষ। টিমের সঙ্গে কথা হয়েছে, একজন গ্রাহক ফোন করে নতুন একটা সমস্যা বলেছে, একজন সহকর্মী একটা অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়েছে, আর দুপুরে যে পরিকল্পনাটা খুব ভালো মনে হচ্ছিল, সন্ধ্যায় এসে সেটাই একটু সন্দেহজনক লাগছে।
আপনি ল্যাপটপ বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেলেন।
কিন্তু আজকের দিনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা হয়তো আপনার মাথার ভেতরেই রয়ে গেল।
একজন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার প্রতিদিন অনেক কিছু ঘটে। কিন্তু সবকিছু মনে থাকে না। আজ যে গ্রাহক কথাটা বললেন, তিন মাস পরে সেটাই হয়তো আপনার পণ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কারণ হতে পারত। আজ যে ভুলটা হলো, এক বছর পরে হয়তো সেটাই আপনাকে বড় একটা ভুল থেকে বাঁচাতে পারত। তাই প্রতিদিন রাতে নিজের স্টার্টআপের গল্পটা লিখে রাখা দরকার।
এটা হিসাবের খাতা নয়। প্রতিদিন কত টাকা আয় হলো, কতজন ব্যবহারকারী বাড়ল, কতগুলো মিটিং হলো, সেটা নয়। বরং লিখুন, আজ কী ঘটল, আমি কী দেখলাম, কী শিখলাম এবং আমার চিন্তায় কী বদলাল।
ধরুন, আপনি একটি প্রডাক্ট তৈরি করছেন। সকালে মনে হলো, মানুষ নিশ্চয়ই এই সুবিধাটাই সবচেয়ে বেশি চাইবে। বিকেলে একজন গ্রাহক ব্যবহার করতে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য একটি সমস্যার কথা বললেন। আপনি হয়তো তখন বিষয়টাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেন না।
কিন্তু রাতে লিখে রাখলে কয়েক সপ্তাহ পরে আপনি হয়তো দেখবেন, একই ধরনের কথা আরও চারজন বলেছে। তখন একটা ঘটনা আর ঘটনা থাকে না। সেটা একটা ধরণ হয়ে যায়।
আবার কখনও হয়তো আপনার টিম কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকক্ষণ আলোচনা করল। শেষ পর্যন্ত একটা সিদ্ধান্ত হলো। রাতে লিখে রাখলেন, কেন সিদ্ধান্তটা নিলেন এবং তখন কী ভেবেছিলেন।
ছয় মাস পরে ফলাফল দেখে যদি বোঝা যায় সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল, তখন পুরোনো লেখাটা খুলে দেখতে পারবেন। ভুলটা কোথায় হয়েছিল, সেটা বোঝা অনেক সহজ হবে। আর এখানেই দৈনিক লেখার সবচেয়ে বড় মূল্য।
আপনি শুধু স্টার্টআপের গল্প লিখছেন না। আপনি নিজের চিন্তার ইতিহাসও লিখছেন।
আজ আপনি যে সমস্যাটাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, তিন মাস পরে হয়তো সেটাকে গুরুত্বহীন মনে হবে। আজ যে গ্রাহককে আদর্শ গ্রাহক মনে হচ্ছে, কয়েক মাস পরে হয়তো বুঝবেন অন্য একটি গোষ্ঠীর জন্য আপনার পণ্য অনেক বেশি দরকারি।
এই পরিবর্তনগুলো মনে রাখা কঠিন। কিন্তু লিখে রাখলে আপনার নিজের চিন্তার পরিবর্তন চোখের সামনে দেখা যায়।
আর একটা অদ্ভুত সুবিধাও আছে।
কঠিন দিনে এই খাতাটা খুলে দেখুন। হয়তো আজ মনে হচ্ছে কিছুই এগোচ্ছে না। কিন্তু কয়েক মাস আগের লেখা পড়লে দেখবেন, তখন যে সমস্যাটা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন, সেটা আপনি সমাধান করে ফেলেছেন। যে পণ্যটা তখন শুধু ধারণা ছিল, সেটা এখন বাস্তবে আছে। যে গ্রাহক পাওয়াটা অসম্ভব মনে হয়েছিল, তার কাছ থেকেও হয়তো অর্ডার এসেছে।
স্টার্টআপের পথে আমরা সামনে তাকিয়ে এত বেশি দৌড়াই যে পেছনে তাকিয়ে কতটা পথ এসেছি, সেটা দেখতে ভুলে যাই।
তবে প্রতিদিনের লেখা খুব বড় হতে হবে না। পাঁচ থেকে দশ মিনিটই যথেষ্ট।
প্রতিদিন রাতে শুধু কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। আজ কী ঘটল? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী শিখলাম? কোন সিদ্ধান্ত নিলাম এবং কেন? কোন বিষয়টি আমাকে অবাক করল? আগামীকাল কোন একটি বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে?
কিছুদিন পর এই ছোট ছোট লেখাগুলো একসঙ্গে হয়ে যাবে আপনার স্টার্টআপের আসল গল্প।
একদিন হয়তো আপনার বিনিয়োগকারী জানতে চাইবে, এই সমস্যাটা আপনি কীভাবে বুঝলেন। আপনার দল জানতে চাইবে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নতুন কোনো সহকর্মী জানতে চাইবে, শুরুতে কী হয়েছিল।
তখন আপনার কাছে শুধু স্মৃতি থাকবে না। থাকবে পুরো যাত্রার গল্প। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গল্পটা অন্য কারও জন্য নয়।
প্রতিদিন রাতে কয়েক মিনিট নিজের স্টার্টআপের গল্প লিখুন। কারণ আপনি শুধু একটি কোম্পানি তৈরি করছেন না। আপনি এমন একটি গল্প তৈরি করছেন, যার প্রতিটি দিন একদিন আপনার সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
Sources
- Personal Thought
About the writer
Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.
Knowledge layer
Connected notes
Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.
Loading notes…
