সব সমস্যার সমাধান করতে হবে, এমন কোনো কথা আছে?

By Adnan Dewan · Oct 23, 2026, 7:14 PM

0readers
Share
সব সমস্যার সমাধান করতে হবে, এমন কোনো কথা আছে?

ধরুন, আমাদের স্টার্টআপের একজন বড় কাস্টমার চলে গেলেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে মিটিং ডাকলাম। কীভাবে নতুন কাস্টমার আনব, কীভাবে বিক্রি বাড়াব, কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেব, এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হলো। কিন্তু কেউ একটা প্রশ্ন করল না, এই কাস্টমার চলে যাওয়াটা কি সত্যিই আমাদের জন্য খারাপ? হয়তো তিনি অনেক বেশি ছাড় চাইতেন, পেমেন্ট দিতে দেরি করতেন এবং অল্প লাভের বিনিময়ে টিমের অনেক সময় নিতেন। তাহলে তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করাই কি সঠিক সিদ্ধান্ত?

কোনো সমস্যা দেখা দিলেই সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে না।

আমরা অনেক সময় সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করার পরই সেটি ঠিক করার পরিকল্পনা শুরু করি। কিন্তু একটু থেমে যদি ভাবি, কিছুই না করলে কী হবে, তাহলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়। বড় কাস্টমার হারানো মানেই ব্যবসার ক্ষতি নয়, অফিসে পুরোনো কোনো পদ্ধতি বদলানো মানেই উন্নতি নয়। কখনো কখনো কোনো কিছু না করেও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব যাচাই করতে হবে।

কোনো সমস্যা মেনে নেওয়াও একটি সিদ্ধান্ত।

আমাদের হাতে সময়, টাকা ও মানুষের পরিশ্রমের সীমা আছে। তাই প্রতিটি ছোট সমস্যা সমাধান করতে গেলে বড় সমস্যাগুলো অবহেলিত হতে পারে। ধরুন, একটি স্টার্টআপের অফিসে ছোটখাটো কিছু ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়েছে। সেগুলো ঠিক করতে টিমের কয়েক দিন সময় লাগবে। কিন্তু একই সময়ে কাস্টমার ধরে রাখার বড় সমস্যা সমাধান করা অনেক বেশি জরুরি। সবকিছু নিখুঁত করার চেষ্টা না করে কোন সমস্যাটি এখন সমাধান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

কখনো সমস্যাটি সমাধান না করে তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ভালো।

সব সমস্যার সমাধানের খরচ সমান নয়। কোনো সমস্যা ঠিক করতে যত সময়, টাকা ও পরিশ্রম লাগবে, তার চেয়ে সমস্যা মেনে নেওয়ার খরচ কম হতে পারে। যেমন, একটি ছোট ব্যবসার বিক্রির পরিমাণ কম হলেও লাভের হার ভালো এবং ব্যবসাটি স্থিতিশীল। শুধু বিক্রি বাড়ানোর জন্য বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন খরচ করার আগে ভাবতে হবে, সেই বাড়তি বিক্রির জন্য যে বিনিয়োগ দরকার, তা সত্যিই লাভজনক হবে কি না। সমস্যা মেনে নেওয়া মানে হাল ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং সচেতনভাবে খরচ ও লাভের তুলনা করা।

সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে প্রশ্নটিই অন্যভাবে করে দেখতে পারি।

ধরুন, আমাদের প্রতিযোগী কম দামে পণ্য বিক্রি করছে। আমরা প্রশ্ন করলাম, কীভাবে আমাদের খরচ কমিয়ে দাম কমানো যায়? কিন্তু কম দামে প্রতিযোগিতা করাই কি একমাত্র পথ? এর বদলে প্রশ্ন করা যায়, কীভাবে আমাদের পণ্যকে আরও ভ্যালুয়েবল করা যায়? কাস্টমার কেন বেশি দাম দিয়েও আমাদের কাছ থেকে কিনবেন? কিংবা এমন কী নতুন পণ্য তৈরি করা যায়, যেখানে প্রতিযোগিতার টাইপটাই আলাদা? প্রশ্ন বদলালে সমাধানের সম্ভাবনাও বদলে যায়। অনেক সময় আমরা যে সমস্যার সমাধান খুঁজছি, সেটি আসল সমস্যাই নয়।

সঠিক প্রশ্ন খুঁজে পাওয়াও ক্রিয়েটিভিটির অংশ।

একটি সমস্যাকে আমরা যেভাবে সংজ্ঞায়িত করি, তার ওপর নির্ভর করে আমরা কী ধরনের সমাধান খুঁজব। “কীভাবে অফিস পরিষ্কার রাখব?” প্রশ্নটির উত্তর এক রকম হতে পারে। কিন্তু “কীভাবে অফিসের অগোছালো পরিবেশ আমাদের কাজে কম বাধা সৃষ্টি করবে?” প্রশ্নটি অন্য রকম সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। একইভাবে, “কীভাবে কাস্টমার বাড়াব?” প্রশ্নের বদলে “কোন ধরনের কাস্টমার আমাদের ব্যবসাকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে নেবে?” প্রশ্নটি আরও কার্যকর হতে পারে। তাই সমাধান খোঁজার আগে সমস্যাটিকে সঠিকভাবে বোঝা জরুরি।

পরেরবার কোনো সমস্যা সামনে এলে সমাধান খোঁজার আগে দুটি প্রশ্ন করি: কিছুই না করলে কী হবে? আর আমরা কি সঠিক সমস্যাটিই সমাধান করতে চাইছি? এরপর সমস্যাটির গুরুত্ব, সমাধানের খরচ এবং সম্ভাব্য লাভ বিবেচনা করি। সব সমস্যা ঠিক করার চেষ্টা না করে সঠিক সমস্যাটি বেছে নিই, কারণ কখনো কখনো সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো সমস্যাটি ছেড়ে দেওয়া, আর কখনো হলো প্রশ্নটিই বদলে ফেলা।

Sources

  • Personal Insight
  • Chris Croft

About the writer

Adnan Dewan

Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.

Knowledge layer

Connected notes

Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.

Loading notes…