প্রযুক্তি কি আপনাকে নতুন কিছু ভাবতে সহায়তা করতে পারে?
By Adnan Dewan · Sep 30, 2026, 7:26 PM
ধরুন, আপনার একটা কাজ করতে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা লাগে। একই কাজ বারবার করতে হয়, একই তথ্য বারবার লিখতে হয়, একই প্রশ্নের উত্তর বারবার দিতে হয়। এতদিন ধরে আপনি হয়তো ভাবছেন, “কাজটা তো এমনই।” কিন্তু যদি একবার থেমে প্রশ্ন করেন, “এই কাজটা কি প্রযুক্তি দিয়ে সহজ করা যায়?” তখনই হয়তো নতুন একটা পথ খুলে যেতে পারে।
আমরা সাধারণত প্রযুক্তিকে নতুন কিছু করার হাতিয়ার হিসেবে দেখি। কিন্তু প্রযুক্তি আরেকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এটি পুরোনো কোনো সমস্যাকে একেবারে অন্যভাবে সমাধান করার সুযোগ দিতে পারে।
আজ দোকানে গিয়ে পণ্য কিনলে বারকোডের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই দাম জানা যায়। খাবার খেতে চাইলে আগে থেকে জায়গা ঠিক করা যায়। কোথাও যেতে হলে পথের অবস্থা দেখে বিকল্প রাস্তা বেছে নেওয়া যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে দিনের পরিকল্পনা বদলানো যায়। এমনকি ঘরের বিদ্যুৎ খরচ কমাতেও বিভিন্ন প্রযুক্তি সাহায্য করতে পারে।
এসবের কোনোটিই শুধু “প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য প্রযুক্তি” নয়। কোথাও সময় বাঁচানো হচ্ছে, কোথাও খরচ কমছে, কোথাও মানুষের পরিশ্রম কমছে, আবার কোথাও একই কাজ অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
এবার নিজের কাজের দিকে তাকান।
ধরুন, আপনি একটি ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিদিন অনেক মানুষ একই ধরনের প্রশ্ন করে। আপনি চাইলে প্রতিবার নিজে উত্তর দিতে পারেন। আবার ভাবতে পারেন, সাধারণ প্রশ্নগুলোর উত্তর কি এমনভাবে তৈরি করা যায়, যাতে মানুষ নিজেরাই প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যায়?
অথবা আপনি যদি প্রতিদিন একই তথ্য বিভিন্ন জায়গায় লিখেন , তাহলে ভাবতে পারেন, এই কাজটা কি কোনোভাবে স্বয়ংক্রিয় করা যায়? যদি প্রতিদিনের একটি কাজ একবার ব্যবস্থা করে দেওয়ার পর নিজে থেকেই চলতে পারে, তাহলে সেই সময়টা অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে এখানে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই সবকিছু ভালো হয়ে যাবে, এমন নয়। নতুন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করতে টাকা লাগতে পারে, সময় লাগতে পারে, মানুষকে নতুনভাবে কাজ শেখাতে হতে পারে।
তাই প্রশ্নটা শুধু “এটা কি প্রযুক্তি দিয়ে করা সম্ভব?” নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, “এটা করতে যতটা সময় ও টাকা লাগবে, তার বিনিময়ে আমি কী পাব?”
কখনও হয়তো নিজের জন্য নতুন কিছু কিনতে হবে । তখন চিন্তা করা যেতে পারে, যে জিনিসটি প্রয়োজন, সেটি ভাড়া নেওয়া যায় কি না, অন্যের কাছ থেকে ব্যবহার করা যায় কি না। বড় বিনিয়োগ করার আগে ছোটভাবে চেষ্টা করা যায় কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
আর প্রযুক্তি ভাবার জন্য আপনাকে প্রযুক্তিবিদ হতে হবে না। একটা সহজ কৌশল আছে।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “এই কাজটা যদি আমার হয়ে এক হাজার মানুষ করত, তাহলে আমি কীভাবে করাতাম?”
হয়তো প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতেন। প্রত্যেককে একই বিষয় বুঝিয়ে বলতেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে একই তথ্য নিতেন। প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে কোনো কাজ করতেন।
এবার ভাবুন, সেই এক হাজার মানুষের কাজের কোনো অংশ কি প্রযুক্তি করতে পারে?
হয়তো একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। হয়তো একটি ভিডিও একই কথা এক হাজার মানুষকে বোঝাতে পারে। হয়তো একটি অনলাইন ফর্ম তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। হয়তো একটি সফটওয়্যার একই কাজ বারবার করে দিতে পারে।
এখানে আসল বিষয় প্রযুক্তি নয়। আসল বিষয় হলো, আমরা যে সমস্যাকে এতদিন “এভাবেই করতে হয়” বলে মেনে নিয়েছি, সেটাকে নতুন করে দেখা। তাই পরেরবার কোনো কাজ অযথা সময় নিচ্ছে বলে মনে হলে শুধু আরও দ্রুত করার চেষ্টা করবেন না। একবার থামুন। ভাবুন, কাজটা যদি প্রযুক্তির সাহায্যে করা হতো, তাহলে কেমন হতো? কোন অংশটা স্বয়ংক্রিয় করা যেত? কোন অংশটা সহজ করা যেত? আর সবচেয়ে ছোটভাবে সেটা পরীক্ষা করা যায় কীভাবে?
হয়তো আপনার সমস্যার সমাধান নতুন কোনো মানুষের মধ্যে নেই। হয়তো নতুন কোনো কর্মীও লাগবে না। হয়তো আপনার প্রয়োজন শুধু পুরোনো কাজটাকে নতুনভাবে দেখার অভ্যাস।
কারণ অনেক সময় প্রশ্নটা “আমরা এটা আরও ভালোভাবে কীভাবে করব?” নয়। প্রশ্নটা হতে পারে, “এটা কি আমাদের এভাবেই করতে হবে?”
Sources
- Personal insight
- Keith Thomson
About the writer
Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.
Knowledge layer
Connected notes
Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.
Loading notes…
