সমস্যার সমাধান খুঁজতে ৫টি ভিন্ন ব্রেইনস্টর্মিং টেকনিক
By Adnan Dewan · Oct 22, 2026, 3:08 PM

একটি স্টার্টআপের কাস্টমার কমে যাচ্ছে। টিম মিটিংয়ে সবাই বলছে, বিজ্ঞাপন বাড়াতে হবে। কিন্তু কেউ ভাবছে না, সমস্যাটা বিজ্ঞাপনে না হয়ে পণ্যে, দামে কিংবা কাস্টমারের অভিজ্ঞতায়ও হতে পারে। একই ধরনের চিন্তার মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে আমরা যদি সমস্যাটিকে ভিন্ন পদ্ধতিতে দেখি, তাহলে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে।
রাউন্ড রবিন: সবাইকে আইডিয়া দেওয়ার সুযোগ দিই।
অনেক মিটিংয়ে দেখা যায়, দুজন মানুষই বেশির ভাগ কথা বলেন, বাকিরা চুপ থাকেন। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে প্রত্যেকে পর্যায়ক্রমে একটি করে আইডিয়া দেন। একজনের আইডিয়া থেকে অন্যজন নতুন কিছু যোগ করতে পারেন। কেউ সরাসরি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে কাগজে লিখেও আইডিয়া দেওয়া যায়। এতে শুধু সবচেয়ে বেশি কথা বলা মানুষের চিন্তা নয়, পুরো টিমের চিন্তা সামনে আসে।
পাঁচবার কেন: সমস্যার পেছনের কারণ খুঁজি।
ধরুন, আমাদের স্টার্টআপের কাস্টমাররা বারবার অর্ডার করছেন না। প্রথম প্রশ্ন হতে পারে, কেন? হয়তো পণ্য সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। কেন পৌঁছাচ্ছে না? হয়তো ডেলিভারি পরিকল্পনায় সমস্যা। এরপর আবার প্রশ্ন করি, সেই সমস্যা কেন হচ্ছে? এভাবে কয়েক ধাপ ধরে কারণ অনুসন্ধান করলে মূল সমস্যার কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। তবে পাঁচবার প্রশ্ন করলেই যে সব সময় সঠিক কারণ পাওয়া যাবে, তা নয়। পাওয়া কারণটি বাস্তব তথ্য দিয়ে যাচাই করাও জরুরি।
ফিগার স্টর্মিং: অন্য কারও জায়গায় দাঁড়িয়ে চিন্তা করি।
আমরা প্রায়ই নিজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসের মধ্যেই সমাধান খুঁজি। এবার ভাবি, এই সমস্যাটি যদি কোনো বিখ্যাত উদ্যোক্তা, একজন কৃষক, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কিংবা আমাদের পণ্যের একজন নতুন কাস্টমার সমাধান করতেন, তাহলে কীভাবে ভাবতেন? উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শেখার অ্যাপ তৈরি করতে গিয়ে শুধু ফাউন্ডারের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, একজন ব্যস্ত শিক্ষার্থী বা একজন শিক্ষকের জায়গা থেকেও প্রশ্ন করা যায়। এটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির অনুশীলন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাস্তবে ঠিক কী ভাববেন তার নিশ্চয়তা নয়।
চারেট পদ্ধতি: বড় দলকে ছোট দলে ভাগ করে একাধিক সমস্যা নিয়ে কাজ করি।
যখন একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আইডিয়া দরকার, তখন বড় দলের সবাইকে একটি আলোচনায় আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। আলাদা বোর্ডে আলাদা প্রশ্ন লিখে ছোট ছোট দল তৈরি করা যায়। প্রতিটি দল নির্দিষ্ট সময় ধরে একটি বিষয়ে আইডিয়া তৈরি করবে। এরপর তারা অন্য বোর্ডে গিয়ে আগের দলের আইডিয়াগুলোর সঙ্গে নতুন ধারণা যোগ করবে। যেমন, একটি স্টার্টআপের টিম আলাদাভাবে কাস্টমার ধরে রাখা, বিক্রি বাড়ানো এবং খরচ কমানোর উপায় নিয়ে কাজ করতে পারে।
আইডিয়া প্রতিযোগিতা: নির্দিষ্ট সময়ে যত বেশি সম্ভব সম্ভাবনা তৈরি করি।
টিমকে কয়েকটি দলে ভাগ করে একটি নির্দিষ্ট সমস্যা দেওয়া যায়। প্রত্যেক দল পাঁচ বা দশ মিনিটে যত বেশি সম্ভব আইডিয়া লিখবে। এখানে প্রতিযোগিতার লক্ষ্য সেরা আইডিয়া সঙ্গে সঙ্গে বেছে নেওয়া নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার সংখ্যা বাড়ানো। সবচেয়ে বেশি আইডিয়া তৈরি করা দলকে ছোট পুরস্কারও দেওয়া যেতে পারে। পরে সব আইডিয়া একসঙ্গে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্যগুলো বেছে নেওয়া হবে।
পরের টিম মিটিংয়ে সব টেকনিক একসঙ্গে ব্যবহার করার দরকার নেই। আমাদের সামনে থাকা সমস্যাটি বেছে নিই, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করি। কারণ নতুন আইডিয়া পাওয়ার জন্য শুধু বেশি সময় ধরে মিটিং করাই যথেষ্ট নয়, কখনো কখনো চিন্তা করার পদ্ধতিটাই বদলাতে হয়।
About the writer
Adnan brings 12+ years of work across startups, innovation programs, and young founder development in Bangladesh. He is working with Startup Bangladesh Limited and has worked with the iDEA project, guiding startups and helping run national ecosystem programs such as Student to Startup.
Knowledge layer
Connected notes
Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.
Loading notes…
