অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত প্রাণিসম্পদ বিপ্লব: ল্যাব থেকে খামার—অর্গাভেটের বাস্তব লড়াইয়ের গল্প)
By Shakil Rana Swadhin · Sep 18, 2026, 5:14 PM

পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে একটি কঠিন ও বিপজ্জনক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। আমাদের দেশের খামারগুলোতে সাধারণ রোগব্যাধি সামলাতে অ্যান্টিবায়োটিকের তীব্র অপব্যবহার এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ফিড অ্যাডিটিভসের ওপর অনিয়ন্ত্রিত নির্ভরতা দিন দিন মহামারির রূপ নিচ্ছিল। পশুর শরীরে তৈরি হচ্ছিল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR), আর দুধ-ডিম-মাংসের মাধ্যমে বিষাক্ত ভারী ধাতু প্রবেশ করছিল সাধারণ মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে। ২০১৮ সালে এই জাতীয় সংকটের স্থায়ী সমাধানের ভাবনা থেকেই মাথায় আসে এক আপাত ‘অসম্ভব’ চিন্তা: কৃত্রিম অ্যান্টিবায়োটিক সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে কেবল শতভাগ অর্গানিক ও ভেষজ উপাদানে কি ব্রয়লার ও প্রাণিসম্পদের চিকিৎসা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব? এই অদম্য প্রয়াস থেকেই জন্ম নেয় অর্গাভেট। আমাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—১,০০০ ব্রয়লার মুরগির সম্পূর্ণ ৩৫ দিনের চক্রের জন্য একটি সমন্বিত জৈব মেডিসিন সমাধান তৈরি করা, যা খামার পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তাকে শূন্যে নামিয়ে আনবে। ল্যাবরেটরিতে বোটানিক্যাল ফর্মুলেশন দাঁড় করানো যতটা গবেষণার বিষয় ছিল, বাণিজ্যিক ও মাঠপর্যায়ে তা প্রতিষ্ঠা করা ছিল হাজার গুণ বড় সংগ্রাম। সবচেয়ে বড় বাধা ছিল খামারিদের দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক অবিশ্বাস—"গাছগাছড়া দিয়ে কি ব্রয়লারের জটিল রোগ সারে?" এর সাথে যুক্ত ছিল খাঁটি কাঁচামাল সোর্সিংয়ের জটিলতা, দীর্ঘ ল্যাব ট্রায়াল এবং প্রচলিত কেমিক্যাল সিন্ডিকেটের অসম প্রতিযোগিতা। আমরা কোনো শর্টকাট খুঁজিনি; দিনের পর দিন প্রত্যন্ত খামারে গিয়ে হাতে-কলমে নিজস্ব ফর্মুলেশনের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা প্রমাণ করেছি। BCSIR-এর মতো শীর্ষ গবেষণাগারের স্বীকৃতি ও মাঠের বাস্তব ফলাফল ধীরে ধীরে খামারিদের আস্থা মজবুত করেছে, যার সুবাদে আজ ১,২৯৩টিরও বেশি বাণিজ্যিক খামার ক্লাস্টারে পৌঁছে গেছে অর্গাভেটের প্রযুক্তি। এই দীর্ঘ চড়াই-উতরাই আমাকে দুটি বড় শিক্ষা দিয়েছে: প্রথমত, কোনো উদ্ভাবন যত আধুনিক বা বৈজ্ঞানিকই হোক না কেন, তা যদি খামারির সহজ ভাষায় বোধগম্য না হয় এবং তার উৎপাদন খরচ কমাতে না পারে, তবে তা টেকসই হবে না। দ্বিতীয়ত, হাইপ নয়—কঠোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, সততা ও মাঠের মানুষের সমস্যার প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতাই যেকোনো হার্ডকোর স্টার্টআপের টিকে থাকার প্রধান চালিকাশক্তি। এই বিপ্লবের পেছনের সবচেয়ে বড় কাণ্ডারি আমার আপন বড় ভাই, অর্গাভেটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ রানা। তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত কৃষি অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের সমন্বয় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা ছাড়া এই রূপান্তর সম্ভব হতো না। পাশাপাশি আমাদের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. গোলাম আজম ও ড. বিবেক চন্দ্র রায়ের গবেষণালব্ধ পরামর্শ প্রতিটি ফর্মুলেশনকে আন্তর্জাতিক মানের কার্যকারিতা দিয়েছে। অর্গাভেটের এই পথচলা যদি একটি সিনেমা হতো, তবে এর কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো কর্পোরেট উদ্যোক্তা বা ল্যাব গবেষক হতেন না। সেই সিনেমার আসল নায়ক হতেন একজন প্রান্তিক খামারি—যিনি ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজের রক্ত-ঘামে খামার আগলে রাখেন, পরিবারকে টিকিয়ে রাখেন এবং সমগ্র জাতির জন্য নিরাপদ প্রোটিন জোগানের নিঃশব্দ স্বপ্ন দেখেন। আর অর্গাভেট সেই গল্পের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা, যে মাটির মানুষের পাশে থেকে নিরাপদ ও বিষমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নীরব বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছে।
About the writer
As the Founder of Orgavet Medicine Ltd, I lead efforts to produce antibiotic-free, affordable, and healthy animal protein. With over 15 years of entrepreneurial experience, my goal is to empower farmers through sustainable, profitable practices while protecting public health. Using my management and strategic skills, I drive innovative farming solutions. My mission is to ensure a safer food supply for communities by promoting antibiotic-free farming.
Knowledge layer
Connected notes
Add evidence, a correction, or useful context. STS reviews every note before it appears; this is not a comment thread.
Loading notes…

